ইলিশ
শারদীয় পূজার আগে কলকাতার বাজারে বাংলাদেশি ইলিশের সরবরাহ
শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে কলকাতার বাজারে পৌঁছাতে শুরু করেছে বাংলাদেশি ইলিশ। মঙ্গলবার রাতে বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে মাছভর্তি ট্রাক ভারতে প্রবেশ করে। প্রথম দফায় ৫০ মেট্রিক টন ইলিশ কলকাতায় পৌঁছেছে। এরপর ধাপে ধাপে আরও ১,২০০ মেট্রিক টন ইলিশ পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতা ও হাওড়ার পাইকারি বাজারে নিলামের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা এসব ইলিশ ক্রয় করেন। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ১,৬০০ থেকে ১,৭০০ টাকার মধ্যে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পূজার সময় চাহিদা বেড়ে গেলে দাম আরও কিছুটা বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় রপ্তানি নীতি ২০১৫–১৮ অনুযায়ী শর্তসাপেক্ষে ইলিশ রপ্তানি সম্ভব। প্রথমবার ২০১৯ সালে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর থেকে শারদীয় পূজার সময় নিয়মিতভাবে পদ্মার ইলিশ কলকাতার বাজারে যাচ্ছে। গত বছর প্রাথমিকভাবে ৩,০০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা কমে ২,৪২০ টন হয়। এ বছর অন্তর্বর্তী সরকার ১,২০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে।
প্রতি কেজি ইলিশের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১,০৫৭ টাকা। সরকারি ঘোষণা আসার পর থেকেই কলকাতার বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পূজার আগে পদ্মার ইলিশ বাজারে পৌঁছাবে—এই প্রত্যাশায় অনেকে অপেক্ষা করছিলেন।
কলকাতার মাছ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, উৎসবের আগে ইলিশের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। সরবরাহ নিয়মিত থাকলে দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে। তবে পূজার সময় ক্রেতার সংখ্যা বেড়ে গেলে খুচরা দামে সাময়িক উর্ধ্বগতি দেখা দিতে পারে।
প্রথম দফায় যে সরবরাহ পৌঁছেছে, তা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ব্যবসায়ীদের আশা, ধাপে ধাপে আরও ইলিশ আসতে থাকলে ক্রেতারা সহজেই পদ্মার ইলিশ কিনতে পারবেন। এতে পূজার আমেজও বেড়ে যাবে।
বাংলাদেশি ইলিশ কলকাতার বাজারে শুধু স্বাদ মেটাচ্ছে না, পূজার আনন্দও দ্বিগুণ করছà

