সাবেক তিন গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক তিন গভর্নর ও ছয়জন ডেপুটি গভর্নরের ব্যাংক হিসাব এবং লেনদেন–সংক্রান্ত সব ধরনের তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুরোধে আজ বুধবার দেশের সব ব্যাংকে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বিএফআইইউর পাঠানো চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব খোলার আবেদন ফরম, লেনদেনের পূর্ণ বিবরণ, ‘নো ইওর কাস্টমার’ (কেওয়াইসি) তথ্য, এবং যদি কোনো হিসাব বন্ধ থাকে তবে তার কারণসহ সমস্ত নথি তিন কর্মদিবসের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে।
তালিকায় রয়েছেন সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান, ফজলে কবির এবং আব্দুর রউফ তালুকদার। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৯ আগস্ট ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে গভর্নরের পদ থেকে পদত্যাগ করেন আব্দুর রউফ তালুকদার। যদিও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। অন্যদিকে, আতিউর রহমান ও ফজলে কবিরকে গত এক বছরে প্রকাশ্যে কোনো অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। এ তিনজনই গত দেড় দশকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেছেন।
ডেপুটি গভর্নরদের তালিকায় আছেন—সরকার পতনের পর দুদকের মামলায় কারাবন্দী এস কে সুর চৌধুরী, বিএফআইইউর প্রধানের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগে বাধ্য হওয়া মো. মাসুদ বিশ্বাস, সংস্থাটির সাবেক প্রধান আবু হেনা মো. রাজী হাসান, এবং সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান, কাজী ছাইদুর রহমান ও আবু ফরাহ মো. নাছের।
বিএফআইইউর নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো ধরণের ঘাটতি বা বিলম্ব সহ্য করা হবে না। এ সংক্রান্ত নথি পাওয়ার পর যাচাই–বাছাই করে দুদকের হাতে তুলে দেওয়া হবে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান তদন্তের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে অতীতের আর্থিক লেনদেন ও সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়।

