ছবি : সংগৃহীত
অন্তর্বর্তী সরকারের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা ‘ভালো কিছু হয়নি’—এমনটাই মেনে নিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা বলছি না যে খুব ভালো জিনিস করে ফেলেছি কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে।”
সোমবার উপস্থাপিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৭ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকার বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থকে আবাসন খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে শর্ত হিসেবে সেখানে পাঁচ গুণ কর নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই প্রস্তাবের সমালোচনা করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “এর ফলে সৎ পথে আয় করা নাগরিকদের সঙ্গে অসঙ্গতি ও বৈষম্য সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি, এই উদ্যোগ থেকে সরকারের রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনাও খুব বেশি নয় বলে মনে হচ্ছে।”
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক বিবৃতিতে বলেছে, “অন্তর্বর্তী সরকারের এ উদ্যোগ রাষ্ট্রীয় সংস্কার, বিশেষ করে দুর্নীতি দমন কমিশনের সংস্কারের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। এটি অনৈতিক, বৈষম্যমূলক এবং সংবিধান পরিপন্থি।”
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “কালো টাকা কিন্তু ঠিক কালো টাকা না। আমরা বলেছি ‘অপ্রদর্শিত আয়’। কোনো কারণে আপনার কাছে থাকলে শুধুমাত্র ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “দুটো দিক আছে—একটা নৈতিক, আরেকটা বাস্তবিক। কালো টাকা সাদা করার বিষয়টিতে আমরা উভয় দিক থেকেই চিন্তা করেছি। আমরা এটা পুরোপুরি সমর্থন করছি না, তবে কর আদায়ের দিকটিও দেখতে হচ্ছে।”
পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ নিতে হতো না বলে মন্তব্য করেন সালেহউদ্দিন। তিনি বলেন, “কালো টাকা ফিরিয়ে আনা সহজ নয়। পাচারকারীরা খুব বুদ্ধিমানভাবে লেয়ারিং করে টাকা পাঠায়। ১২টি উল্লেখযোগ্য কেস শনাক্ত করা হয়েছে। প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তবে সময় লাগবে।”
অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্à¦

