বেনারসের তাঁতশিল্প
ধাক্কা খেল বেনারসের তাঁতশিল্প, লাভে পশ্চিমবঙ্গ
ভারতের আধ্যাত্মিক রাজধানী ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী এলাকা বেনারসের ঘিঞ্জি গলিতে এখন আর আগের মতো তাঁতের খটখট শব্দ শোনা যায় না। মোহাম্মদ আহমদ আনসারি নামের এক প্রবীণ তাঁতি জানালেন, “ছয় মাসেও একেকটি বেনারসি শাড়ি শেষ করতে হয়। আগে বাংলাদেশে বিপুল চাহিদা ছিল, এখন অর্ডার অর্ধেকেরও কম।”
আনসারির মতো হাজারো তাঁতির জীবিকা এখন সংকটে। কারণ, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা দুই দেশের বাণিজ্যেও গভীর প্রভাব ফেলেছে।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এর জেরে বাংলাদেশ গত এপ্রিল মাসে ভারত থেকে সুতা ও চালসহ কয়েকটি পণ্য আমদানি সীমিত করে। পাল্টা জবাবে ভারত স্থলপথে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য আমদানি বন্ধ করে দেয়।
ফলে বাংলাদেশের বাজারে বেনারসি শাড়ির রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এখন ভারতীয় ব্যবসায়ীদের শাড়ি পাঠাতে হচ্ছে ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ সমুদ্রপথে।
বেনারসের পাইকারি ব্যবসায়ী পবন যাদব বলেন, “বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১০ হাজার শাড়ি পাঠাতাম। এখন সব বন্ধ। সেখানে আমার প্রায় ১৫ লাখ রুপি আটকে আছে।”
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভারতের বস্ত্রখাত কৃষির পর দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থানের উৎস। এ খাতে ৩৫ লাখেরও বেশি মানুষ কাজ করেন। এর মধ্যে শুধু শাড়ি শিল্পের বাজারমূল্য প্রায় ৮০ হাজার কোটি রুপি, যার ৩০০ মিলিয়ন ডলার আসে রপ্তানি থেকে।
বেনারসের তাঁতিরা বলছেন, নোটবন্দি, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, করোনা মহামারি এবং সুরাটের যন্ত্রচালিত তাঁতের প্রতিযোগিতায় আগেই শিল্পটি দুর্বল ছিল। এখন বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সংকট যেন “মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।”

