ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক এক সপ্তাহ আগে সিলিকন ভ্যালিতে ব্যাপক সাড়া ফেলে চীনের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অ্যাপ ‘ডিপসিক’। রাতারাতি অ্যাপটির ‘ডিপসিক-আর১’ সংস্করণ যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপল ফ্রি অ্যাপস চার্টের শীর্ষস্থান দখল করে।
ওই সময় কোম্পানির দাবি ছিল, তাদের চ্যাটবট শুধু ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটির প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং মডেলটি তৈরিতে খরচ হয়েছে অতি সামান্য অর্থ। এ ঘোষণার সঙ্গে অ্যাপটির হঠাৎ জনপ্রিয়তা যুক্ত হয়ে শেয়ারবাজারে বিরাট প্রভাব ফেলে। মার্কিন চিপ জায়ান্ট এনভিডিয়ার বাজারমূল্য একদিনেই কমে যায় ৬০ হাজার কোটি ডলার— যা যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে কোনো একক কোম্পানির জন্য সবচেয়ে বড় দৈনিক পতন বলে জানিয়েছে বিবিসি। এর ধাক্কায় আরও কয়েকটি এআই-নির্ভর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারও পড়ে যায়।
ডিপসিকের আবির্ভাব যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র এআই আধিপত্য নিয়েও প্রশ্ন তোলে। এতদিন ধারণা ছিল, এ খাতে চীন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক পিছিয়ে। কিন্তু ডিপসিকের উত্থান অনেকের কাছে মনে করিয়ে দেয়, চীন যেন হঠাৎ করেই এআই প্রতিযোগিতায় সামনের সারিতে চলে এসেছে।
ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট মার্ক আন্দ্রেসেন তখন ‘ডিপসিক-আর১’-এর উত্থানকে আখ্যা দেন “এআইয়ের স্পুটনিক মুহূর্ত” হিসেবে— যেভাবে সোভিয়েত ইউনিয়নের স্যাটেলাইট স্পুটনিক একসময় যুক্তরাষ্ট্র-সোভিয়েত মহাকাশ প্রতিযোগিতা শুরু করেছিল, ঠিক তেমনভাবেই এআই খাতে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করেছে ডিপসিক।
তবে সময়ের সাথে সাথে সেই আলোচনার তীব্রতা ফিকে হয়ে এসেছে। ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও চীনের এ যুগান্তকারী অ্যাপটি এখন আর সান ফ্রান্সিসকো কিংবা সিলিকন ভ্যালির মূল আলোচনায় নেই। তবুও, পুরোপুরি মিলিয়ে যায়নি ‘ডিপসিক’।

