ছবি: সংগৃহীত
পাবনার চাটমোহরে প্রাণ ডেইরি হাব সেন্টারে ভেজাল দুধ জব্দের ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত’ বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের দুধ সরবরাহে ব্যর্থ হয়ে স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র কয়েকজন কর্মীকে প্রলুব্ধ করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
রোববার রাজধানীর বাড্ডায় প্রাণ-আরএফএল সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা বলেন, “চাটমোহরে প্রাণ ডেইরির একটি গ্রামীণ দুধ সংগ্রহ কেন্দ্রে ডিটারজেন্ট মেশানো দুধ প্রবেশের ঘটনাটি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত ছিল। স্থানীয় ভেজাল দুধ সরবরাহকারী চক্র কৌশলে আমাদের কয়েকজন কর্মীর সহায়তায় এ কাজটি করেছে, যাতে প্রাণ ডেইরির সুনাম নষ্ট হয়।”
গত ২১ জুলাই চাটমোহরের ছাইকোলা ইউনিয়নের প্রাণ ডেইরির একটি হাবে স্থানীয় প্রশাসন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) যৌথ অভিযানে ভেজাল দুধের সন্ধান পায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণের কয়েকজন কর্মী ও খামারিকে শাস্তি দেওয়া হয়।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল সংবাদ সম্মেলনে জানান, “আমরা নিবন্ধিত সরবরাহকারীদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করি এবং প্রক্রিয়াজাত করার আগে চার ধাপে মান পরীক্ষা করি। গ্রামীণ সংগ্রহ কেন্দ্র, মাদার হাব ও কারখানায় মিলিয়ে ১৪ ধরনের মান পরীক্ষা হয়। খারাপ বা ভেজাল মেশানো দুধ পাওয়া গেলে তা নষ্ট করে দেওয়া হয়।”
তিনি আরও জানান, গত এক বছরে মান পরীক্ষায় অনুপযুক্ত হওয়ায় ২৭ লাখ লিটার দুধ ফেরত দেওয়া হয়েছে, ২৮৩ জন সরবরাহকারীর কোড বাতিল ও ২৭ জন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
ইলিয়াছ মৃধা বলেন, “ডিটারজেন্ট মেশানো দুধের ঘটনায় আমরা বিস্মিত। ঘটনাস্থলের হাবটি তাৎক্ষণিক বন্ধ করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সন্দেহভাজন তিন কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত এবং চারজন স্থানীয় সরবরাহকারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
প্রাণ ডেইরির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মাকসুদুর রহমান অভিযোগ করেন, কিছু সরবরাহকারীর কোড বাতিল হওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরে সুনাম নষ্টের ষড়যন্ত্র করে আসছে। “গত ৭ মার্চ এক কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়, যা নিয়ে থানায় মামলা হয়। সম্প্রতি সেই সংঘবদ্ধ দল বরখাস্ত হওয়া কর্মীদের হাত করে ডিটারজেন্ট মেশানো দুধ হাবে প্রবেশ করিয়েছে,” বলেন তিà

