ডোনাল্ড ট্রাম্প । ছবি: সংগৃহীত
ক্ষমতা মানে কেবল বলপ্রয়োগ নয়, বরং অন্যকে দিয়ে নিজের উদ্দেশ্য সফল করিয়ে নেওয়ার কৌশল। এ কাজ করা যায় বলপ্রয়োগের মাধ্যমে (যাকে কূটনীতিতে বলা হয় ‘স্টিক’ বা ‘লাঠি’), আবার অর্থ বা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে (যাকে বলা হয় ‘ক্যারট’ বা ‘গাজর’) কিংবা তৃতীয় একটি উপায়—আকর্ষণের মাধ্যমে, যাকে বলা হয় ‘মধু’। প্রথম দুটি পদ্ধতি হার্ড পাওয়ারের অংশ, আর শেষেরটি সফট পাওয়ার।
একটি দেশের সংস্কৃতি, রাজনৈতিক আদর্শ এবং পররাষ্ট্রনীতিই সফট পাওয়ারের ভিত্তি তৈরি করে। স্বল্পমেয়াদে হার্ড পাওয়ার তাৎক্ষণিক ফল দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সফট পাওয়ারই সত্যিকারের টেকসই প্রভাব ফেলে। ইতিহাসের একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদাহরণ হলো স্তালিনের সেই বিখ্যাত তাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্য, “পোপের কয়টা ডিভিশন আছে?” বাস্তবে দেখা গেছে, ভ্যাটিকানের পোপ এখনও বিশ্বে প্রভাবশালী, অথচ স্তালিনের সোভিয়েত ইউনিয়ন অনেক আগেই ইতিহাসের পাতায় স্থান নিয়েছে।
শীতল যুদ্ধের সময় ইউরোপে দুই ধরনের প্রভাব বিস্তার দেখা যায়—একদিকে ছিল সোভিয়েতের বলপ্রয়োগ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে স্বেচ্ছায় গৃহীত পশ্চিমা মূল্যবোধ। হাঙ্গেরি (১৯৫৬) ও চেকোস্লোভাকিয়া (১৯৬৮)-তে সোভিয়েত সেনা হস্তক্ষেপ ছিল জোরপূর্বক আধিপত্যের উদাহরণ। বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গঠিত ন্যাটো জোটে দেশগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দেয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আদর্শ ও নেতৃত্বকে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ করে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিতে এই সফট পাওয়ারকেই অগ্রাহ্য করা হয়। তিনি ইউএসএআইডি এবং ভয়েস অব আমেরিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ সফট পাওয়ার উপাদান দুর্বল করে দেন। জাতিসংঘ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বিশ্ববাসীর কাছে নেতিবাচক বার্তা দেয়। অথচ, জলবায়ু সংকট ও বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় এই সংস্থাগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।
বিà¦

