বাণিজ্যমন্ত্রী
এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ নিয়ে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠবে। দীর্ঘ আট বছরের মূল্যায়ন ও প্রস্তুতির পর এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। কিন্তু এখন, হাতে যখন আর মাত্র আট মাস সময়, তখন নতুন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই জানালেন, সরকার এলডিসি থেকে উত্তরণ কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেবে। তাঁর এ বক্তব্য ঘিরে নীতিনির্ধারণী মহল, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং অর্থনীতিবিদদের মধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা ও ভিন্নমত।
বুধবার সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ বিলম্বিত করতে যা যা প্রয়োজন, সরকার তা-ই করবে। তিনি জানান, এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় করা হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে, কারণ এলডিসি সুবিধা হারালে রপ্তানিতে চ্যালেঞ্জ বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে এলডিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে বাংলাদেশ তিনটি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়। এ সূচকগুলো হলো মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা। জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো দুটি সূচকে উত্তীর্ণ হলে অথবা মাথাপিছু আয় নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ হলে কোনো দেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য সুপারিশ পায়। ২০২১ সালে বাংলাদেশকে ২০২৪ সালে উত্তরণের সুপারিশ করা হয়। তবে করোনা মহামারির কারণে প্রস্তুতির জন্য দুই বছর সময় বাড়ানো হয়। ফলে নতুন নির্ধারিত তারিখ দাঁড়ায় ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর।
এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এতদিন ইউরোপসহ বিভিন্ন বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটা-মুক্ত সুবিধা ভোগ করেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে এ সুবিধা ছিল বড় সহায়ক। তাই অনেক ব্যবসায়ী মনে করেন, এলডিসি সুবিধা হঠাৎ হারালে রপ্তানিতে

