বৈদেশিক ঋণ
প্রতিশ্রুতি ও অর্থ ছাড় বেড়েছে
অন্তর্বর্তী সরকার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের বাড়তি চাপে পড়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই–আগস্ট) আগের বছরের তুলনায় ঋণ পরিশোধ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। একই সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিশ্রুতি এবং অর্থ ছাড়ও বেড়েছে, যা সরকারের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সদ্য প্রকাশিত জুলাই–আগস্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুই মাসে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে ৬৬ কোটি ৭১ লাখ ডলার। এর মধ্যে আসল ঋণ ৪৮ কোটি ৮৭ লাখ ডলার এবং সুদ বাবদ ১৭ কোটি ৮৩ লাখ ডলার দেওয়া হয়েছে। তুলনামূলকভাবে গত অর্থবছরের একই সময়ে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হয়েছিল ৫৮ কোটি ৯২ লাখ ডলার। সেক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, এ বছর অতিরিক্ত ৭ কোটি ৭৯ লাখ ডলার বেশি পরিশোধ করেছে সরকার।
গত বছরের মতো এবারও ঋণের সুদের বোঝা বড় অংশজুড়ে আছে। গত বছর দুই মাসে সুদ দেওয়া হয়েছিল ১৭ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৮৩ লাখ ডলারে। আর আসল ঋণ পরিশোধের পরিমাণ গত বছরের ৪১ কোটি ৫৬ লাখ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৮ কোটি ৮৭ লাখ ডলার।
তবে শুধু ঋণ পরিশোধ নয়, এ সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নতুন প্রতিশ্রুতিও এসেছে অনেক বেশি। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে উন্নয়ন সহযোগীরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মোট ২৪ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। এর মধ্যে ঋণ ২৩ কোটি ২৫ লাখ ডলার এবং অনুদান ১ কোটি ১২ লাখ ডলার। গত বছর একই সময়ে প্রতিশ্রুতি এসেছিল মাত্র ২ কোটি ডলার, যা পুরোটা ছিল অনুদান। অর্থাৎ, এ বছর প্রতিশ্রুতি আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ কোটি ডলার বেশি।
অন্যদিকে অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক চিত্র দেখা যাচ্ছে। চলতি দুই মাসে উন্নয়ন সহযোগীরা ছাড় করেছে ৭৫ কোটি ডলার। এর মধ্যে ঋণ ৭৪ কোটি এবং অনুদান প্রায় ১ কোটি ডলার। তুলনায় গত বছর একই সময়ে ছাড় হয়েছিল ৪৫ কোটি ৮২ লাখ ডলার। তখন ঋণ ছিল ৩৮ কোটি ৬৯ লাখ ডলার এবং অনুদান ৭১ লাখ ডলার। এ হিসাবে চলতি বছরে অর্থ ছাড় বেড়েছে প্রায় ৩০ কোটি ডলার।
সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, সরকারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়লেও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি এবং অর্থ ছাড় উভয়ই বেড়েছে। এতে একদিকে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে উন্নয়ন খাতে অর্থায়ন টà¦

