সার আমদানি
সার আমদানি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে: অর্থ উপদেষ্টা
সার আমদানিকে কেন্দ্র করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে তা খতিয়ে দেখা হবে। কৃষি এবং শিল্প মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি যাচাই করতে বলা হয়েছে।”
গত এক সপ্তাহ ধরে ব্যবসায়ী মহলে অভিযোগ উঠেছে যে, বেসরকারি পর্যায়ে সার আমদানির প্রক্রিয়ায় নতুন করে ‘অনিয়মের সুযোগ’ তৈরি হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, একজন ব্যক্তিকে নিয়ম ভেঙে একই কার্যাদেশে দুটি দেশের জন্য ভিন্ন দামে একটি লটের সার আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরও ১১ সেপ্টেম্বর এক ফেসবুক পোস্টে কার্যাদেশের কপি তুলে ধরে অভিযোগ করেন, “এটি সরকারের অর্থ লোপাটের অভিনব উদ্যোগ। দরপত্রে সর্বনিম্ন দরের নিয়ম ভেঙে কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে ‘নেগোসিয়েশন’ করে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।”
তবে কৃষি মন্ত্রণালয় অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, অতীতের অনিয়ম দূর করার ফলে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের স্বার্থহানি হয়েছে, আর সরকারের অর্থ সাশ্রয় হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ কার্যাদেশে টনপ্রতি ২০ থেকে ১৫০ ডলার পর্যন্ত ব্যয় কমানো সম্ভব হয়েছে। তারা বলছে, “সার আমদানিতে দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অসত্য তথ্য।”
প্রতিবছর প্রায় ৬৯ লাখ টন সার ভর্তুকি মূল্যে বিতরণ করে সরকার। ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সার বিদেশ থেকে আমদানি করে কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়। সরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি বেসরকারি খাত থেকেও সার আমদানির সুযোগ রয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আগের নিয়মে একই সার বিভিন্ন দরপত্রে ভিন্ন দরে সরবরাহের সুযোগ ছিল, যা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে বাড়তি সুবিধা দিত। নতুন নিয়মে কেবল সর্বনিম্ন দর প্রস্তাব গ্রহণ করা হচ্ছে। এতে সরকারের ৩২১ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে বলেও দাবি তাদের।
সবশà§

