কৃষকের পাশে স্টার্টআপ ‘অঙ্কুর’
ডিজিটাল সেবায় বেড়েছে ফলন, কমেছে খরচ
গাইবান্ধার এরেন্দাবাড়ী গ্রামের কৃষক শাহাদাত হোসেনের চাষাবাদ জীবন ছিল নানা দুশ্চিন্তায় ভরা। মাত্র ৩৩ শতক জমিতে চাষ করেন তিনি। কিন্তু কোন ফসল ফলাবেন, মাটি কেমন, কীভাবে উৎপাদন খরচ সামলাবেন—এসব নিয়ে সব সময় দ্বিধায় থাকতেন। তার ওপর চড়া সুদে ঋণ নেওয়ার চাপ তো আছেই।
এই অবস্থায় ২০২৩ সালে স্থানীয় একটি এনজিওর মাধ্যমে পরিচয় হয় ডিজিটাল কৃষি তথ্য ও পরামর্শ সেবাদাতা স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ‘অঙ্কুর’-এর সঙ্গে। শুরুটা বদলে দেয় শাহাদাতের কৃষিজীবন।
অঙ্কুর প্রথমেই জমির মাটি পরীক্ষা করে তাকে জানায়, তার জমির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ফসল হচ্ছে ‘বারি হাইব্রিড ভুট্টা-১০’। পাশাপাশি জানিয়ে দেয় কত টাকা খরচ হবে, কীভাবে সার, বীজ, কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে। খুদে বার্তার মাধ্যমে নিয়মিত কৃষি পরামর্শ পৌঁছে যায় তার ফোনে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে আবহাওয়ার পূর্বাভাসও জানায় অঙ্কুর। এমনকি ব্যাংক থেকে ৪–৯ শতাংশ সুদে কৃষিঋণ পাওয়ার সুযোগও করে দেয়।
শুধু শাহাদাত নন, হাজারো কৃষকের জন্য কৃষিকাজ সহজ করেছে এই স্টার্টআপ। অঙ্কুরের তথ্য অনুযায়ী, তাদের সেবা নেওয়ার পর গড়ে কৃষকের ফসল উৎপাদন ১৫ শতাংশ বেড়েছে, চাষের খরচ কমেছে ২৫ থেকে ২৮ শতাংশ, আর লাভ বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ।
মাটি পরীক্ষা ও আবহাওয়ার তথ্য একসঙ্গে
কৃষকদের জন্য জমির মাটি পরীক্ষা করে থাকে সরকারি প্রতিষ্ঠান মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই)। তবে দেশের ২৪টি গবেষণাকেন্দ্র দিয়ে সেবা পেতে কৃষকের সময় লাগে অন্তত ১৫ দিন। আবহাওয়ার নির্ভরযোগ্য তথ্যও প্রান্তিক কৃষকের কাছে সহজলভ্য নয়। এই সীমাবদ্ধতা দূর করার লক্ষ্যেই ২০১৯ সালে কয়েক তরুণ উদ্যোক্তার হাতে জন্ম নেয় অঙ্কুর। প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধিত নাম ‘আইপেজ গ্লোবাল’।
ঢাকার ধানমন্ডির একটি ছোট গ্যারেজ থেকে শুরু হওয়া অঙ্কুর এখন আঞ্চলিক অফিস চালাচ্ছে গাইবান্ধা, পাবনা, জয়পুরহাট, রংপুর ও সিরাজগঞ্জে। ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে স্থানীয় এনজিওর সহায়তায় সেবা দিচ্ছে তারা। বর্তমানে তাদের নিবন্ধিত কৃষকের সংখ্যা ৩২ হাজারের বেশি। এর মধ্যে প্রায় সাত হাজার কৃষক সরাসà¦

