ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ চাইলে জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের সময়সীমা বিলম্বিত করতে পারে। বাণিজ্য ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো কঠিন প্রক্রিয়া নয়, বরং অনেক দেশই পূর্বে এই সুযোগ নিয়েছে।
সোমবার রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) সেমিনারকক্ষে আয়োজিত এক আলোচনায় এ তথ্য উঠে আসে। “এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রভাব ও চ্যালেঞ্জ” শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নাগরিক উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা থার্ড ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্কের কারিগরি সহায়তায়। আলোচনায় অংশ নেন থার্ড ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্কের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক সানিয়া রিড স্মিথ ও রঞ্জা সেনগুপ্ত এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মেধাস্বত্ব আইন বিশেষজ্ঞ তাসলিমা জাহান।
এলডিসি উত্তরণের ধাপ ও বিলম্বের সুযোগ
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতি বিশ্লেষক সানিয়া রিড স্মিথ জানান, এলডিসি উত্তরণে তিনটি ধাপ রয়েছে—জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি কমিটির মূল্যায়ন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) অনুমোদন এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদন। প্রতিটি ধাপেই সময়সীমা পিছানোর আবেদন করা সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ভানুয়াতু প্রায় ১৫ বছর উত্তরণ পেছিয়েছে, মিয়ানমারও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ দেখিয়ে সময় নিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের উত্তরণের সিদ্ধান্ত আগের সরকারের সময় নেওয়া হলেও পরবর্তীতে বৈশ্বিক রাজনীতি ও বাণিজ্যে বড় পরিবর্তন এসেছে। যেমন—যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় বাণিজ্য ধাক্কা তৈরি করেছে, যা সিদ্ধান্তের সময় বিবেচনায় ছিল না। এসব পরিবর্তন বাংলাদেশের সময়সীমা বাড়ানোর যৌক্তিকতা তৈরি করে।
অর্থনৈতিক সুবিধা হারানোর শঙ্কা
সানিয়া রিড স্মিথের মতে, উত্তরণের পর বাংলাদেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সুবিধা হারাবে। বর্তমানে এলডিসি থাকার কারণে ওষুধশিল্প মেধাস্বত্ব ছাড়াই নতুন ওষুধ উৎপাদন ও রপ্তানি করতে পারছে। উত্তরণের পর এসব ক্ষেত্রে পেটেন্ট বাধ্যতামূলক হবে, ফলে বিনিয়োগ কমতে পারে। এছাড়া শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধাও হারাবে।
উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা বিনিয়োগ

