ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রতি মাসেই দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বা পণ্যের দাম বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, আগের মাসের তুলনায় সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের খরচ কতটা বেড়েছে বা কমেছে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে, জুনের তুলনায় দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। অর্থাৎ, বাজারে খাবার থেকে শুরু করে অন্যান্য সব ধরনের পণ্যের দাম সামগ্রিকভাবে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
মূল সংখ্যা (Statistics)
সার্বিক মূল্যস্ফীতি (Overall Inflation)
জুনে ছিল ৮.৪৮%
জুলাইয়ে হয়েছে ৮.৫৫%
বৃদ্ধি: ০.০৭ শতাংশ পয়েন্ট
→ এর মানে হলো, আগের মাসের তুলনায় জিনিসপত্র কেনার খরচ সামান্য বেড়েছে।
খাদ্য মূল্যস্ফীতি (Food Inflation)
জুনে ছিল ৭.৩৯%
জুলাইয়ে হয়েছে ৭.৫৬%
বৃদ্ধি: ০.১৭ শতাংশ পয়েন্ট
→ অর্থাৎ চাল, ডাল, তেল, সবজি, মাছ, মাংসের মতো দৈনন্দিন খাদ্যপণ্যের দাম গড়ে একটু বেশি লেগেছে।
খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি (Non-food Inflation)
জুনে ছিল ৯.৩৭%
জুলাইয়ে হয়েছে ৯.৩৮%
বৃদ্ধি: ০.০১ শতাংশ পয়েন্ট
→ বাসাভাড়া, পোশাক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহনসহ খাদ্য ছাড়া অন্যান্য খাতে খরচও সামান্য বেড়েছে।
গ্রাম বনাম শহর
মূল্যস্ফীতির প্রভাব গ্রাম এবং শহরে আলাদা মাত্রায় পড়েছে।
- গ্রামাঞ্চল
- সার্বিক মূল্যস্ফীতি: ৮.৫৫% (বৃদ্ধি: ০.০৯%)
- খাদ্য মূল্যস্ফীতি: ৭.৩৬%
- খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি: ৯.৭৩%
→ গ্রামে খাদ্যবহির্ভূত খরচ শহরের তুলনায় কিছুটা বেশি।
- শহরাঞ্চল
- সার্বিক মূল্যস্ফীতি: ৮.৯৫% (বৃদ্ধি: ০.০১%)
- খাদ্য মূল্যস্ফীতি: ৮.০৪%
- খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি: ৯.৫৫%
→ শহরে খাবারের দাম বৃদ্ধির হার গ্রামাঞ্চলের চেয়ে বেশি।
এর মানে কী?
- সামগ্রিকভাবে দাম বাড়ছে — বিশেষ করে খাদ্যপণ্যে।
- গ্রামে খাদ্যবহির্ভূত খরচ বেশি, হয়তো পরিবহন বা পরিষেবা খাতের কারণে।
- শহরে খাদ্যদ্রব্য বেশি দামী হচ্ছে, যা হয়তো বাজার চেইন, পরিবহন ব্যয় বা সরবরাহ সংকটের কারণে।

