ছবি: সংগৃহীত
এক যুগেরও বেশি সময় বেক্সিমকোর পোশাক কারখানায় কাজ করেছিলেন মনির শেখ। চাকরি চলে যাওয়ার পর বহু কারখানায় ঘুরেছেন নতুন কাজের খোঁজে, কিন্তু ভাগ্যে মেলেনি চাকরি। শেষ পর্যন্ত জীবিকার জন্য হাত বাড়াতে হয়েছে সবজি বিক্রির দিকে। তাঁর মতো আরও অনেক প্রাক্তন শ্রমিক পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন।
মনির শেখ জানান, যে কারখানাতেই চাকরির জন্য যান, আগের কর্মস্থল বেক্সিমকোর নাম শুনলেই কর্তৃপক্ষ অনাগ্রহ দেখায়। চাকরি না পেয়ে পেট চালানোর জন্য এখন চক্রবর্তী বাজার এলাকায় সবজি বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, অনেক সাবেক সহকর্মীই এখন হয় ছোটখাটো ব্যবসা করছে, নয়তো বেকার হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
কারখানা বন্ধ, হাজারো শ্রমিক বেকার
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর গাজীপুরের বড় ও ছোট মিলিয়ে মোট ১০৬টি শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যায়, যার মধ্যে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কও রয়েছে। শিল্প পুলিশের তথ্যানুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে প্রায় ৭৩ হাজার শ্রমিক চাকরি হারান। কেউ কেউ কম বেতনে অন্যত্র চাকরি পেলেও, অনেকেই এখনো বেকার। কেউ অটোরিকশা চালাচ্ছেন, কেউ ফেরি করে পণ্য বিক্রি করছেন, আবার কেউ সবজি বিক্রি করছেন জীবিকার জন্য।
যশোরের জামাল হোসেন আট-নয় বছর বেক্সিমকোতে কাজ করেছেন। চাকরি হারানোর পর গ্রামে ফিরে কৃষিকাজ শুরু করলেও তা ভালো না লাগায় আবার শহরে ফিরে চাকরির চেষ্টা করছেন। কিন্তু এখনও সাফল্য মেলেনি। একই এলাকার আনিসুর রহমান চাকরি না পেয়ে এখন ফেরি করে পণ্য বিক্রি করছেন।
বেক্সিমকোর ১৩টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ
গত ফেব্রুয়ারিতে আর্থিক সংকটের কারণে বেক্সিমকো গ্রুপের ১৩টি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়, চাকরি হারান ২৮ হাজার ৫১৩ শ্রমিক। কারখানা চালুর দাবিতে তারা একাধিকবার সড়ক অবরোধও করেছেন।
চক্রবর্তী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আগের কোলাহল নেই। যেসব ভাড়াবাসা শ্রমিকদের ভিড়ে পূর্ণ ছিল, এখন সেগুলো খালি পড়ে আছে। অনেক ভবন মালিক ব্যাংক ঋণে বাড়ি করলেও ভাড়াটিয়া না থাকায় ঋণ শোধে হিমশিম খাচ্ছেন।
স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব
স্থানীয় দোকানপাটে বিক্রি কমে গেছে মারাত্মকভাবে। আগে যà

