ছবি: সংগৃহীত
আইসিসিতে অংশ না নেওয়ার খেসারত
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) অবহেলাজনিত এক সিদ্ধান্তের কারণে আন্তর্জাতিক আইনি লড়াইয়ে না গিয়ে প্রায় ২৪ বছর পর একক সিদ্ধান্তে দেওয়া রায়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২৪৫ কোটি টাকা) জরিমানা গুনতে হয়েছে। মার্কিন প্রতিষ্ঠান স্মিথ কো-জেনারেশন (বাংলাদেশ) প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে করা একটি বিদ্যুৎ প্রকল্প চুক্তি বাতিলের ঘটনায় এই বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে।
কোথায় ছিল ভুল?
ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯৭ সালের অক্টোবরে। তৎকালীন সরকার হরিপুরে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্মিথ কো-জেনারেশনের সঙ্গে দুটি চুক্তি করে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে প্রতিষ্ঠানটি বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে না পারায় সরকার ১৯৯৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি চুক্তি বাতিল করে এবং ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে জমাকৃত ১৫ লাখ ডলার বাজেয়াপ্ত করে।
এরপর স্মিথ কো-জেনারেশন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিশি আদালত (আইসিসি) এবং যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক আদালতে মামলা করে। ২০০০ সালে আইসিসির সালিশি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য পিডিবিকে ৬০ হাজার ডলার দিতে বলা হয়। কিন্তু তৎকালীন পিডিবি পরিচালনা পর্ষদ এবং আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করেন। তাদের যুক্তি ছিল, বাংলাদেশে তখনো সালিশি আইন কার্যকর হয়নি, ফলে রায় কার্যকর হবে না।
এই ভুল সিদ্ধান্তের ফলেই একতরফাভাবে আইসিসি সালিশি ট্রাইব্যুনাল ২০০৩ সালে পিডিবির বিপক্ষে রায় দেয়। এতে বছরে ৪ শতাংশ সুদসহ ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে রায় কার্যকরের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, স্কটল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড ও বাংলাদেশে একাধিক মামলা হয়।
ওয়াশিংটনে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, রাষ্ট্রদূতের বাসায় আশ্রয়
২০২৪ সালের অক্টোবরে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে ওয়াশিংটন যান অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। ওই সময় স্মিথ কো-জেনারেশন মার্কিন আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি কà¦

