ছবি: সংগৃহীত
চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি দমনে গত তিন অর্থবছর ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক যে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করে আসছে, তারই ধারাবাহিকতা থাকছে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নতুন মুদ্রানীতিতেও। আগামী ৩১ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন। এর আগে ৩০ জুলাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সভায় মুদ্রানীতির খসড়া অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি এখনও ৭ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। ফলে নীতি সুদহার তথা রেপো রেট আগের মতো ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হবে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাও প্রায় একই থাকবে। চলতি অর্থবছরে এ লক্ষ্য ছিল ৯ দশমিক ৮ শতাংশ, তবে বাস্তবে তা ৭ দশমিক ১৭ শতাংশে থেমে গেছে।
ঋণপ্রবাহে স্থবিরতা ও বিনিয়োগে সংকট
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মে থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত এক বছরে বেসরকারি খাতে ঋণ বেড়েছে মাত্র ৭.১৭ শতাংশ, যা এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধির রেকর্ড। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উচ্চ সুদহারের কারণে উদ্যোক্তারা নতুন করে ঋণ নিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন, ফলে বিনিয়োগেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে ব্যাংক ঋণের সুদহার ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত উঠে গেছে। অথচ তিন বছর আগেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপো রেট ছিল মাত্র ৫ শতাংশ, যার কারণে তৎকালীন সময়ে ঋণের সুদহার ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক কম।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি অব্যাহত
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “তিন বছর ধরে যে ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি ছিল, তা এখন কিছুটা নিম্নমুখী। এটা সংকোচনমুখী মুদ্রানীতিরই সুফল। তবে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে না নামা পর্যন্ত আমরা রেপো রেট কমানোর কথা ভাবছি না। মুদ্রানীতিতে তাই বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।”
নতুন গভর্নরের প্রথম মুদ্রানীতি
চলতি মাসেই দায়িত্ব নেওয়া গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের জন্য এটি হবে প্রথম মুদ্রানীতি। অর্থনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত মনসুর সংকোচন ও মুদ্রাস্ফীতির ভারসাম্য রক্ষায় ‘সংযমী ও রক্ষণশীল’ নীতির পক্ষে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি মূল্যস্ফীতি দমনে সুদের হার স্থিতিশীল রেখে বিনিয়োগ ও উৎপà

