ছবি: সংগৃহীত
ঘাটতি ও চাঁদাবাজিকে দুষলেন উপদেষ্টা ফরিদা আখতার
ইলিশের ভরা মৌসুম চললেও বাজারে এই জাতীয় মাছের দাম সাধারণ ভোক্তাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এর জন্য ‘সরবরাহের ঘাটতি’, ‘চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য’ এবং ‘বৈরি আবহাওয়ায় মাছ ধরায় বাধা’—এই তিনটি কারণকে মূলভাবে দায়ী করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
সোমবার রাজধানীর সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “সরবরাহ কম, সেটাই প্রধান কারণ। কিন্তু চাঁদাবাজিও আছে—যেটা এখনো সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা যায়নি।”
তিনি আরও জানান, গত কয়েক সপ্তাহে ঘন ঘন সাগরে নিম্নচাপের কারণে জেলেরা একসাথে সমুদ্রে যেতে পারেনি। যার ফলে ইলিশের জোগানও কমেছে। একই সঙ্গে মাছ পরিবহনের পথে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজির অভিযোগও দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।
পরিসংখ্যান বলছে—উৎপাদন হচ্ছে, দাম বাড়ছে তবুও
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১২ জুন থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত ৪৬,৭৯০ মেট্রিক টন ইলিশ আহরণ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও ঢাকার বাজারে এক কেজির কম ওজনের ইলিশের দাম ২০০০ টাকার ওপরে উঠেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, “এই দাম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঢাকায় এক কেজির নিচে ইলিশের দাম ১৫০০ টাকার মধ্যে থাকা উচিত।”
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI)-এর প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশের ইলিশ উৎপাদন ৫ লাখ ৩৮ হাজার থেকে ৫ লাখ ৪৫ হাজার টনের মধ্যে হতে পারে। তবে ফরিদা আখতার সতর্ক করে বলেন, “গত অর্থবছরের মতো যদি উৎপাদন হ্রাসের ধারা চলতে থাকে, তাহলে প্রকৃত উৎপাদন আরও কম হতে পারে।”
দাম কমাতে চাঁদাবাজি বন্ধ ও ডিজেলের মূল্য কমানোর উদ্যোগ
উপদেষ্টা জানান, দাম কমানোর লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনায় চাঁদাবাজি রোধ, পরিবহন ব্যয় কমানো ও বিশেষ করে ডিজেলের দাম কমানোর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।
চাঁদপুরসহ যেসব জেলায় ইলিশ বেশি ধরা পড়ে, সেসব এলাকায় ইলিশের দাম নির্ধারণের বিষয়ে একটি নীতিগত প্রস্তাব চলতি মাসের শুরুতেই অনুমোদন দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
১৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পাচ্ছেন জাতীয় মৎস্য পদক
এবারের জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃত

