ছবি: সংগৃহীত
এক সেকেন্ডে ১.০২ পেটাবাইট ডেটা স্থানান্তর, ভবিষ্যতের পথে এক বিশাল পদক্ষেপ
বিজ্ঞানের কল্পকাহিনিকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে জাপান। বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুতগতির ইন্টারনেট প্রযুক্তির সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে দেশটি। প্রতি সেকেন্ডে ১ দশমিক ০২ পেটাবাইট ডেটা স্থানান্তরের মাধ্যমে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে জাপানের বিজ্ঞানীরা। এই গতি এতটাই দ্রুত যে, মুহূর্তের মধ্যেই ডাউনলোড করা সম্ভব হবে হাজার হাজার গান, সিনেমা কিংবা ভারী গেম।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
গত জুনে জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশনস টেকনোলজি (NICT) এ রেকর্ড স্থাপন করে। প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০ লাখ ২০ হাজার গিগাবিট ডেটা স্থানান্তর করে তারা, যা এখন পর্যন্ত বিশ্বের সর্বোচ্চ ইন্টারনেট গতি হিসেবে স্বীকৃত।
কীভাবে সম্ভব হলো এই সাফল্য?
গবেষণাটি কোনো পরীক্ষাগার-নির্ভর বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে নয়, বরং বিশ্বব্যাপী প্রচলিত সাধারণ ফাইবার অপটিক তার ব্যবহার করেই সম্পন্ন হয়েছে। পার্থক্য কেবল একটিই—এই তারের ভেতরে ব্যবহৃত হয়েছে চারটি আলাদা কোর এবং ৫০টিরও বেশি আলোক তরঙ্গদৈর্ঘ্য। সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় হলো, এই গতি ৫১ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত কার্যকরভাবে বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে, যা একে বাস্তবজীবনে প্রয়োগযোগ্য করে তোলে।
এই গতি দিয়ে কী কী সম্ভব?
এমন গতির ইন্টারনেট এলে গ্লোবাল স্কেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ক্লাউড কম্পিউটিং, স্বয়ংক্রিয় যানবাহন এবং রিয়েল-টাইম ভাষান্তরের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে এক নতুন বিপ্লব ঘটবে। বড় মাপের গেম যেমন Counter-Strike 2 কিংবা Baldur’s Gate 3—মাত্র ১০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে ডাউনলোড করা সম্ভব হবে।
এছাড়া এই গতিতে একসঙ্গে এক কোটি ৮কে আল্ট্রা-এইচডি ভিডিও স্ট্রিমিং সম্ভব। এমনকি টোকিও ও নিউইয়র্কের প্রতিটি মানুষকে একযোগে এইচডি সিনেমা দেখানোও সম্ভব হবে। গবেষকেরা দাবি করছেন, মাত্র এক সেকেন্ডে ১,২৭,৫০০ বছরের সমান গান ডাউনলোড এবং উইকিপিডিয়ার সব তথ্য ১০,০০০ বার ব্যাকআপ নেওয়া সম্ভব।

