ছবি: সংগৃহীত
দেখতে একেবারে সাধারণ। কিন্তু বাস্তবে এটি বেশ ব্যতিক্রমী। কিরগিজস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের কায়জাল-কিয়া গ্রামে দাঁড়িয়ে থাকা এই বাড়িটি নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে কোনো কংক্রিট নয়, বরং ধানের তুষ! পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের এই অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা আকমাতবেক উরাইমভ।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকটে থাকা মধ্য এশিয়ার পাহাড়ি দেশ কিরগিজস্তানে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এমন পরিবেশবান্ধব বিকল্প গৃহনির্মাণ পদ্ধতি। বাড়ছে পানির সংকট, জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ সামগ্রীর চাহিদা। এই প্রেক্ষাপটে ধানের তুষ দিয়ে তৈরি বাড়িগুলো নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।
ধানের তুষ: বর্জ্য থেকে সম্পদে রূপান্তর
ধানের তুষ সাধারণত কৃষিকাজ শেষে ফেলে দেওয়া হয় কিংবা পুড়িয়ে ফেলা হয়। ফলে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে এই তুষই এখন রূপ নিচ্ছে নির্মাণ উপাদানে। আকমাতবেক উরাইমভ বলেন, “বিকল্প নিয়ে অনেক ভেবেছি। শেষে বুঝলাম ধানের তুষই সবচেয়ে উপযোগী ও সাশ্রয়ী উপকরণ।”
তিনি আরও জানান, “আমার বাড়ি দেখতে আসছেন আশপাশের মানুষজন। অনেকেই ফোন করে জানতে চাচ্ছেন এর খরচ, পদ্ধতি এবং সুবিধাগুলো।”
শুরু করেছিলেন কাঠের গুঁড়া দিয়ে, এখন ধানের তুষেই আস্থা
ধানের তুষ দিয়ে নির্মাণ ব্লক তৈরির অগ্রপথিকদের মধ্যে অন্যতম ২৭ বছর বয়সী নুরসুলতান তাবালদেয়েভ। কিরগিজস্তানের বাতকেন অঞ্চলে তাঁর একটি ছোট ওয়ার্কশপ রয়েছে, যেখানে শ্রমিকেরা পরিবেশবান্ধব এই ব্লক তৈরি করেন।
নুরসুলতান জানান, প্রতিটি ব্লকের ৬০ শতাংশই ধানের তুষ। বাকি অংশে থাকে কাদা, সিমেন্ট ও রাসায়নিকমুক্ত আঠা। সব উপকরণ মিশিয়ে যখন এগুলো শুকানো হয়, তখন তা অত্যন্ত শক্ত একটি নির্মাণ সামগ্রীতে পরিণত হয়। শ্রমিকেরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরে কাজ করেন।
নুরসুলতান বলেন, “শৈশবে বাবার সঙ্গে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে থেকেই ভাবনা আসে—কংক্রিটের বাইরে এমন কিছু দিয়ে ঘর বানানো যায় কি না, যা সাশ্রয়ী আবার পরিবেশবান্ধব।” এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০টি ঘর তৈরি করেছেন তিনি। প্রথমে কাঠের গুঁড়া ব্যবহার করলেও পরে সেটি বাদ দিয়ে একমাত্র ধানের তুষেই নির্ভর করতà§

