ছবি: সংগৃহীত
দেশজুড়ে তিন দিন ধরে চলা তীব্র গ্যাস সংকটে বিপাকে পড়েছে জনজীবন। আমদানি করা এলএনজি খালাসে সমস্যার কারণে এই সংকট দেখা দেয়, যার প্রভাবে শিল্প কারখানা থেকে শুরু করে সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং আবাসিক এলাকাগুলো পর্যন্ত গ্যাসহীন হয়ে পড়ে।
গত মঙ্গলবার থেকে এই সংকট শুরু হয়। অনেক কল-কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো হঠাৎ করেই গ্যাস সরবরাহ করতে না পারায় পরিবহন ব্যবস্থায়ও বিঘ্ন ঘটে। সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ—বাসাবাড়িতে চুলা বন্ধ, রান্নাবান্না প্রায় অচল।
রাজধানীর বনশ্রী এলাকার একটি রেস্তোরাঁ ‘ভোজন বিলাস’-এর ব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন জানান, “গত দুই দিন ধরে এলাকায় গ্যাস নেই। আমরা এলপি গ্যাসের চুলা দিয়ে যতটা সম্ভব রান্না করছি।”
শুধু রেস্তোরাঁ নয়, আবাসিক এলাকাতেও একই চিত্র। শান্তিনগরের বাসিন্দা সাদিয়া আক্তার বলেন, “দীর্ঘদিন গ্যাসের কোনো সমস্যা ছিল না, তাই বিকল্প ইলেকট্রিক চুলা কোথায় রেখেছি মনে ছিল না। একদিন কষ্ট করে তারপর খুঁজে বের করতে হলো।”
অন্যদিকে খিলগাঁওয়ের একটি ছোট খাবার হোটেলের কর্মচারী শরীফ বলেন, “বৃহস্পতিবার কাস্টমারের ভিড় ছিল বেশি। পরে শুনি অনেক বাসায় গ্যাস না থাকায় বাইরে খেতে এসেছে।”
পেট্রোবাংলার অপারেশন অ্যান্ড মাইন বিভাগের পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হয়েছে এবং শুক্রবার দুপুর নাগাদ অনেক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। তবে সব জায়গায় স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।
সংকটের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বৈরী আবহাওয়া। সাগরে অবস্থানরত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কার্গো ভেড়াতে না পারায় গ্যাস সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে। ফলে জাতীয় গ্যাস সঞ্চালনব্যবস্থায় দৈনিক সরবরাহ প্রায় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট কমে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশে স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ২৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কিছু বেশি হলেও গত কয়েক দিনে তা ২০০০-এর নিচে নেমে আসে। এই ঘাটতির কারণেই সারা দেশে সংকট প্রকট হয়ে ওঠে।
তবে বৃহস্পতিবার থেকে সমস্যা কিছুটা কেটে গেছে। পেট্রোবাংল

