ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার ধারাবাহিক অবমূল্যায়নে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। এতে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে সরকারের খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে চাপ বাড়ায় ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকদের মধ্যে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশকে উচ্চ সুদে এবং স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক ঋণের ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে হবে। একইসঙ্গে রাজস্ব আহরণে ভাটা এবং রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্যহীনতা সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অর্থ বিভাগের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি-বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, রপ্তানি খাত বৈচিত্র্য করা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে। তা না হলে ভবিষ্যতে ঋণঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে সরকারের গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস-এর সাবেক মহাপরিচালক ও অর্থনীতিবিদ এম কে মুজেরি বলেন, “রাজস্ব আহরণ সন্তোষজনক না হওয়ায় সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়ছে। উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে সরকার বাধ্য হয়ে ঋণ নিচ্ছে, কিন্তু এই ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়েও ভাবতে হবে। রাজস্ব আহরণ না বাড়িয়ে ঋণের বোঝা বাড়তে থাকলে একসময় তার চড়া মূল্য দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “দুর্নীতি ও অপচয়ের পথ বন্ধ করে ঋণের অর্থ অবশ্যই উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করতে হবে।”
সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ (২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত) দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে দেশি ঋণ ১০ লাখ ৮৫ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ৮ লাখ ২৬ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর শেষে এ ঋণ সাড়ে ১৯ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই ঋণ বেড়ে ২২ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ।
বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি হয়েছে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে। অর্থ বিভাগের তথ্য মতে, বর্তমানে মোট বৈদেশিক ঋণের ৫৩ শতাংশ মার্কিন ডলারে, ২২ শতাংশ জাপানি ইয়েনে, ৭ শতাংশ চীনা ইউয়ানে, আর ৪ শতাংশ অন্যান্য মুদ্রায় নেওয়া হয়েছে। ফলে ডলার বা অন্যান্য মুদ্রার বিপর

