পরিবহন খাতে সবুজ প্রযুক্তির বিস্তার এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন ও লিথিয়াম ব্যাটারি শিল্পের বিকাশে বড় ধরনের শুল্কছাড় দিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগের ফলে দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগে গতি আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার সরকারের তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, দুটি বিশেষ প্রজ্ঞাপনের (এসআরও) মাধ্যমে ইলেকট্রিক বাইক এবং লিথিয়াম বা গ্রাফিন ব্যাটারির কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কহার ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা হয়েছে। এখন এসব পণ্যের শুল্ক মাত্র ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকার বলছে, এই উদ্যোগের ফলে হুয়াওয়ে, টয়োটা ও ওয়ালটনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো অন্তত ২০০ কোটি টাকার তাৎক্ষণিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা করেছে। এর মাধ্যমে দেশে ই-বাইক, তিন ও চার চাকার বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং মোবাইল টাওয়ারের জন্য লিথিয়াম ব্যাটারি স্থানীয়ভাবে উৎপাদন শুরু হবে।
তথ্য বিবরণীতে আরও বলা হয়, “শুল্কছাড়ের ফলে ই-বাইক এবং লিথিয়াম আয়ন ও লিথিয়াম-গ্রাফিন ব্যাটারির উৎপাদনের পথ সুগম হবে। রিকশা ও ইজি বাইকে সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারির পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাটারি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।”
সরকারের আশা, এই নীতিগত পরিবর্তন দেশের জ্বালানি সাশ্রয়, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ এবং রপ্তানি বৈচিত্র্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি, দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং শিল্পখাতে গতি বাড়বে।
তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, “এই সিদ্ধান্ত বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে এবং রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রায় ১০০০ কোটি টাকার রাজস্ব লিকেজ কমানো সম্ভব হবে।”
শুধু সুবিধা নয়, শুল্ক ফাঁকি এবং ই-বর্জ্য নিয়ন্ত্রণেও পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ২০২২ সালের ১২৩ নম্বর এসআরও বাতিল করে পুরাতন ও রিফার্বিশড পার্টস আমদানির মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এতে প্রতিবছর সরকার আনুমানিক ১০০০ কোটি টাকার রাজস্ব পুনরুদ্ধার করতে পারবে বলে জানানো হয়েছে।
এই উদ্যোগের ফলে পরিবহন খাতে আধুনিকায়ন, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসার এবং দেশীয় উৎপাদনশীলতা বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

