ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা, ৫ জুন — মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’ লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তানভীর আহমেদ মিশুকসহ নয়জনের বিরুদ্ধে ৬৪৫ কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (৫ জুন) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম।
তানভীর আহমেদ মিশুক ছাড়াও যাঁরা মামলার আসামি হয়েছেন, তারা হলেন: নগদের নির্বাহী পরিচালক মো. সাফায়েত আলম, এএমডি ও নমিনি পরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল হক, সিনিয়র ম্যানেজার মারুফুল ইসলাম ঝলক, চিফ টেকনোলজি অফিসার (সিটিও) মো. আবু রায়হান, চিফ ফাইন্যান্স অফিসার (সিএফও) আফজাল আহমেদ, হেড অব ফাইন্যান্স মো. রাকিবুল ইসলাম, হেড অব বিজনেস ইন্টেলিজেন্স গোলাম মর্তুজা চৌধুরী এবং চিফ কমার্শিয়াল অফিসার (সিসিও) শিহাব উদ্দিন চৌধুরী।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২১ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত সময়কালে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার, মিথ্যা হিসাবপত্র ও প্রতিবেদন তৈরি করে নগদের ট্রাস্টকাম সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টে কাগজে-কলমে বিদ্যমান অর্থের তুলনায় ৬৪৫ কোটি ৪৭ লাখ ১০ হাজার ৭৫৮ টাকা বেশি ই-মানি ইস্যু করেন। এরপর এই অর্থ ৪১টি অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে রিফান্ডপূর্বক আত্মসাৎ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামিরা নগদের প্রোডাকশন বা লাইভ সিস্টেমে অননুমোদিতভাবে এসব ডিস্ট্রিবিউটর যুক্ত করেন এবং সেখান থেকে ডেটা সংগ্রহ করে কাস্টমাইজড রিপোর্ট তৈরি করে সংশ্লিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে অনিয়মটি সংঘটিত করেন।
তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭ক, ১০৯ ধারার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ২১ আগস্ট ‘নগদ’-এর পুরনো পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক বদিউজ্জামান দিদারকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির আগের কর্মকাণ্ড তদন্তের আওতায় আসে।

