আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একযোগে কমপক্ষে ১০ জন সাবেক সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধানরা।
দুদকের একাধিক দল এই অনুসন্ধানে কাজ করছে। প্রতিটি দলে রয়েছেন দুই থেকে চারজন করে কর্মকর্তা। ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের অনেকের ব্যাংক হিসাব, জমি ও ফ্ল্যাট জব্দ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের তালিকা ও অভিযোগের সারাংশ:
| নাম | পদবী | প্রধান অভিযোগ |
|---|---|---|
| আজিজ আহমেদ | সাবেক সেনাপ্রধান | জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচার |
| শেখ আব্দুল হান্নান | সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান | ঘুষ, সম্পদ গোপন, বিদেশে অর্থ পাচার |
| টি এম জোবায়ের | সাবেক এনএসআই প্রধান | চাকরি বাণিজ্য, ২৯ লাখ পাউন্ড পাচার |
| মো. সিদ্দিকুর রহমান সরকার | সাবেক রাজউক চেয়ারম্যান | ভূমি ও প্রকল্প দুর্নীতি |
| সালাউদ্দিন মিয়াজী | সাবেক সামরিক সচিব | ভূমি দখল ও পার্ক নির্মাণে অনিয়ম |
| হামিদুল হক | সাবেক ডিজিএফআই প্রধান | আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জন |
| মজিবুর রহমান | সাবেক এসএসএফ প্রধান | ২টি ফ্ল্যাট, ১০টি প্লট এবং বিদেশে সম্পদ অর্জন |
| মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী | সাবেক এমপি ও সেনা কর্মকর্তা | মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে দুর্নীতি |
| জিয়াউল (পূর্ণ নাম অজানা) | সাবেক এনটিএমসি প্রধান | ৪০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ |
চলমান পদক্ষেপ:
- অভিযুক্তদের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি; বেশিরভাগই আত্মগোপনে রয়েছেন।
- ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তারা সাড়া দেননি।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজিজ আহমেদের ভিসা বাতিল করেছে।
- মজিবুর রহমান ও সালাউদ্দিন মিয়াজীকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার বা বরখাস্ত করা হয়েছে।
দুদকের উচ্চ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানান, “এই অনুসন্ধান একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।” অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। বিষয়টি à¦

