ছবি: সংগৃহীত
চার মাস বিনা বেতনে কাজ করার পর টানা পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী ফুলতলা ও এলবিন টিলা ফাঁড়ি চা বাগান। এই সাড়ে নয় মাসে কোনো বেতন, রেশন বা সরকারি সহায়তা না পেয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক। পরিবারসহ বাসিন্দা প্রায় ১০ হাজার মানুষ আজ বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে, চরম অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন।
জুড়ি উপজেলার এই দুই বাগানে স্থায়ী শ্রমিক ১,৩০০-এর বেশি এবং অস্থায়ী আরও তিন থেকে চারশ জন। অথচ বর্তমানে কোনো আয় না থাকায় শ্রমিকদের অনেকেই খাবার জোগাড়ে হিমশিম খাচ্ছেন। সন্তানদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে, অসুস্থ স্বামী বা স্ত্রীকে চিকিৎসা দেওয়া তো দূরের কথা—দুই বেলা খাবারই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
ফুলতলা বাগানের মহাবীর মন্দির লাইনের বাসিন্দা শিবানী সাঁওতাল বলেন, “বেতন ছাড়া ১৬ সপ্তাহ কাজ করেছি, যাতে বাগানটা চলে। কিন্তু এখন আর সম্ভব না। না খেয়ে আর কতদিন কাজ করা যায়? ডিসেম্বর থেকে কোনো কাজ নেই, রোজগার নেই।”
কাজের খোঁজে প্রতিদিন পায়ে হেঁটে কুলাউড়া কিংবা জুড়ি সদর পর্যন্ত ছুটতে হয় দুলাল সাঁওতালের মতো শ্রমিকদের। “গাড়ি ভাড়াও জোটে না, খাবার নেই, কচু-ঘেঁচু খেয়েই দিন যায়,” বললেন তিনি।
বাগানটি দেড় বছর ধরে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন। প্রায় ৫০ লাখ টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেও সংযোগ না মেলায় এখন পুরো বাগান অন্ধকারে। বাগান ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “পিডিবি ট্রান্সমিটার খরচসহ আবারও ৩২ লাখ টাকা দাবি করছে। আদালতে রিট করা হয়েছে।”
পিডিবি’র আবাসিক প্রকৌশলী কবির আহমেদ বলেন, “ট্রান্সমিটার ও এরিয়া বিল বাবদ ৩১ লাখ টাকা না দিলে সংযোগ সম্ভব নয়।”
বিদ্যুৎ না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে কারখানাও। ফলে মোবাইল চার্জ দেওয়ার উপায় নেই, শিশুরা পড়াশোনাও করতে পারছে না।
চায়ের মৌসুম চলছে, অথচ মাঠে পড়ে থাকছে পাতা। বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি রবি বুনার্জি জানান, “২৫ থেকে ৩০ হাজার কেজি চা পাতা পচে গেছে। কাঁচা পাতা তুলে বিক্রি করতে পারলে কিছু টাকা আসত। কিন্তু তুলবে কে?”
দুই হাজার ৬৩৬ একর জমির মধ্যে উৎপাদন হয় ১,৬০০ একরে। প্রতি হেক্টরে গড় উৎপাদন ৭০০ কেজি হলেও সঠিক পরিচর্যা পেলে তা বাড়িয়ে ২,০০০ কেজিতে উন্নীত করা সম্ভব।
২০১৯ সà¦

