লাহোর কালান্দার্স এখন আর শুধুই পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) একটি দল নয়, বরং এই মুহূর্তে দলটি হয়ে উঠেছে যেন বাংলাদেশেরই এক অংশ। কারণ, দলটির ছয়জন বিদেশি ক্রিকেটারের মধ্যে তিনজনই বাংলাদেশ—সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ ও রিশাদ হোসেন।
তবে এখনো একসঙ্গে তিন বাংলাদেশিকে লাহোরের একাদশে দেখা যায়নি। আজকের ফাইনাল ম্যাচে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটরসের বিপক্ষে সেই দৃশ্য দেখা যাবে কি না, এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সমর্থকদের মনে।
বাস্তবতা অবশ্য বলছে, আজকের ফাইনালে তিন বাংলাদেশিকে একাদশে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।
দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে লাহোরের হয়ে বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন কুশল পেরেরা, ভানুকা রাজাপক্ষে, সাকিব আল হাসান ও রিশাদ হোসেন।
এই ম্যাচে পারফরম্যান্সে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়েন কুশল পেরেরা। ৩৫ বলে ৬১ রানের ঝকঝকে ইনিংসে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন এই শ্রীলঙ্কান ওপেনার। এর আগের ম্যাচেও করেন ২৪ বলে ৩০ রান। মিডল অর্ডারে নামা রাজাপক্ষে করেন ১৩ বলে ২২ রান, এলিমিনেটরে ছিলেন অপরাজিত ২৩ রানে। ফলে এই দুইজনের ফাইনালে সুযোগ পাওয়া প্রায় নিশ্চিত।
রিশাদ হোসেনও নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে জায়গা পাকা করে নিয়েছেন। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ৩৪ রানে ৩ উইকেট তুলে নেন তিনি, যাঁদের মধ্যে ছিলেন শাদাব খান, আগা সালমান ও জিমি নিশাম—ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটাররা। এমন পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে ম্যাচ শেষে রিশাদ জিতেছেন দলের দেওয়া ‘স্পেশাল অ্যাওয়ার্ড’—একটি আইফোন।
অন্যদিকে, সাকিব আল হাসানের পারফরম্যান্স তেমন ভালো না হলেও অভিজ্ঞতার দিক থেকে তাঁর গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যাট হাতে দুই ম্যাচেই শূন্য, বল হাতে প্রথম ম্যাচে ১ উইকেট পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ছিলেন উইকেটশূন্য।
তবে অভিজ্ঞতা ও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে তাঁর সাফল্যকে মূল্যায়ন করেই হয়তো তাঁকে একাদশে রাখা হতে পারে। যদি কোনো পরিবর্তন আসে, তাহলে সেটি হতে পারে সাকিবের জায়গায় মেহেদী হাসান মিরাজকে নেওয়া।
লাহোর কালান্দার্স সাম্প্রতিক সময়ে পিএসএল ফাইনাল খেলাকে অভ্যাসে পরিণত করেছে। গত চার মৌসুমে এটি তাদের তৃতীয় ফাইনাল, এর আগে দলটি দুটি শিরোপা ঘরে তুলেছে। এবারও শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বে দলটি ট্রফির দৌড়ে এগিয়ে থাকতে চাইবে। তবে আজকের একাদশে কতজন বাংলাদেশি থাকছেন, সেটিই এখন দেখার

