ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ এশিয়ার জাতিসত্তাগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই ছিল প্রথম, যারা ঔপনিবেশিক সীমারেখা পেরিয়ে একটি নিজস্ব ধাঁচের রাষ্ট্র গঠনে পা বাড়িয়েছিল। এর পেছনে ছিল এক গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গড়ার প্রতিশ্রুতি—যা শ্রেষ্ঠত্ববাদ ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আশাবাদ জাগিয়েছিল। তবে আজ, সেই স্বপ্ন ও বাস্তবতার মাঝে রয়ে গেছে এক গভীর ফারাক।
৩৬ জুলাইয়ের অভ্যুত্থান রাষ্ট্রকে যে নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়েছিল, দশ মাস পেরিয়ে আজ সে আশা অনেকটাই ক্ষীণ। অভ্যুত্থান–পরবর্তী অন্তর্বর্তী শাসন ও রাজনৈতিক সমঝোতার কাঠামো আজ প্রশ্নবিদ্ধ। এক সময় যেই অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল রাজনৈতিক ঐকমত্যে, এখন তার উপদেষ্টামণ্ডলীর মধ্যেই দেখা যাচ্ছে বিভক্তি। বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি একে অপরের বিপরীতে অবস্থান নিচ্ছে—কার্যত, নতুন রাষ্ট্রচেতনার সূচনা স্থগিত হয়ে আছে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন জনজীবন এক অনিশ্চিত ও অস্থির অবস্থার মধ্যে পড়ে আছে। রাজনৈতিক দলে দলে বিভক্ত কর্মীদের মুখোমুখি অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এ অবস্থায় জনগণের প্রশ্ন, তাহলে এই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য কী ছিল?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটে সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কের দুর্বলতা গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, সৈনিক-জনতার ঐকমত্যে যেই অভ্যুত্থান ঘটেছিল, সেই ঐকমত্য রাষ্ট্র সংস্কারে যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি। বরং, প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে সেই ঐক্যকেই ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। অথচ, এই বাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক—যুদ্ধকালীন মুক্তিযুদ্ধে যেমন তারা কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছিল, ৩৬ জুলাইয়ের সময়েও তারা জনগণের সঙ্গে এক কাতারে ছিল।
নির্বাচনের অনুপস্থিতি এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্থবিরতা বর্তমানে এক গভীর নিরাপত্তা সংকট তৈরি করছে। নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর কাছে থাকা মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, দীর্ঘ মেয়াদে রাজনৈতিক নেতৃত্বহীনতা সামাজিক কাঠামোকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যেতে পারে। ১৭ কোটি মানুষের রাষ্ট্রে, কয়েক হাজার সৈনিকের পক্ষে স্থায়ীভাবে অভিভাবকত্ব করা সম্ভব নয়।
অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প, বাণà

