ঢাকার হাজারীবাগের জাফরাবাদ এলাকায় ঘটে যাওয়া নৃশংস এক হত্যাকাণ্ডের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। উন্নত মানের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিতে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে পেশাদার ফটোগ্রাফার নুরুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করেছে একদল তরুণ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল (মঙ্গলবার) ঢাকা ও ময়মনসিংহ থেকে ১০ তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম আজ বুধবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতদের বয়স ১৮ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। তারা টিকটকে ভিডিও তৈরি করত এবং উন্নত ভিডিও বানানোর জন্য একটি উচ্চমানের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে। সে অনুযায়ী ফটোগ্রাফার নুরুল ইসলামকে ফাঁদে ফেলে হত্যা করে।”
ডিসি মাসুদ আলম জানান, নিহত নুরুল ইসলামের ‘Nurislam Photographer’ নামে একটি ফেসবুক পেজ রয়েছে। সেখান থেকেই তাঁকে টার্গেট করে টিকটকে আসক্ত তরুণদের একটি দল। গত ১৫ মে ওই দলের এক সদস্য বিয়ের অনুষ্ঠানের ছবি তোলার কথা বলে নুরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ৫০০ টাকা অগ্রিম পাঠিয়ে তাঁকে রাজি করানো হয়।
পরদিন ১৬ মে সন্ধ্যায় তাঁকে ধানমন্ডির শংকর চৌরাস্তায় আসতে বলা হয়। সঙ্গে ছিলেন নুরুলের সহকারী মো. ইমন। চক্রের দলনেতা নাঈম আহম্মেদের নির্দেশে তাঁরা সেখানে পৌঁছালে একটি অটোরিকশায় করে তাঁদের জাফরাবাদ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
রাত আটটার দিকে ঋষিপাড়া এলাকায় পৌঁছানোর পরই ওৎ পেতে থাকা তরুণদের দলটি অটোরিকশার গতিরোধ করে। এ সময় ইমন রিকশা থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যান। আর ক্যামেরা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে নুরুল ইসলামকে মাথা, ঘাড়, বাহু ও আঙুলে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে নিহতের দুটি ডিএসএলআর ক্যামেরা, একটি চাপাতি, একটি রামদা ও একটি বড় ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএমপি জানায়, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া তরুণদের মধ্যে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: নাঈম আহম্মেদ (দলনেতা), শাহীন আকন্দ, শাহীন চৌকিদার, রহিম সরকার, নয়ন আহম্মেদ, রিদয় মাদবর, আব্দুর রাজ্জাক, আনোয়ার হোসেন, শহিদুল ইসলাম ও মো. আরমান।
নুà¦

