পুলক মজুমদার | ছবি: প্রথম আলো
ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে ঘরে বসেই ফ্রিল্যান্সিংয়ে ক্যারিয়ার গড়েছেন পুলক মজুমদার। এখন তিনি একজন সফল ফ্রিল্যান্সার ও প্রশিক্ষক। মাসিক আয় করছেন দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ফ্রিল্যান্সিং ও স্পোকেন ইংলিশ শিখে অনেকেই নিজের পেশা গড়ার স্বপ্ন দেখছেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগে স্নাতক শেষ করে ২০১৭ সালে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে যোগ দেন পুলক। এক বছর পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে চাকরি ছেড়ে দিতে হয় তাঁকে। জন্ডিস ও থাইরয়েডে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ তিন বছর ঘরে পড়ে থাকেন। চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার পর চাকরিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ এলেও নিজের পছন্দমতো কিছু করতে চাইলেন তিনি।
ঠিক এমন সময় শুরু হয় করোনাভাইরাসের মহামারি। ঘরে বসে আয় করার পথ খুঁজতে গিয়ে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জানেন পুলক। ইউটিউব ও বন্ধুবান্ধবের সহযোগিতায় শুরু করেন শেখা। নিজের চেষ্টা ও সাধনায় ধীরে ধীরে দক্ষ হয়ে ওঠেন। ২০২১ সালের জুন মাসে ফাইভার (Fiverr) মার্কেটপ্লেসে একটি আইডি খুলে কাজের জন্য প্রস্তুতি নেন। বই লেখা, অনলাইন কোর্স তৈরি, প্রেজেন্টেশন ও ভিডিও কনটেন্ট তৈরি ইত্যাদি কাজকে তিনি নিজের কর্মক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন। একই বছরের নভেম্বর থেকে কাজ পেতে শুরু করেন।
এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে তিনি ফাইভার প্ল্যাটফর্মে লেভেল-২ সেলার। এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে দেড় থেকে দুই লাখ টাকায়।
পেশাগত কাজে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছেন পুলক। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ফ্রান্সের মন্টপেলিয়ারে অনুষ্ঠিত ‘ইয়ুথ সামিট অন পিস অ্যান্ড সাসটেইনেবল ফিউচার’ শীর্ষক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে আমন্ত্রণ পান তিনি। ইউনেস্কোসহ চারটি আন্তর্জাতিক সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত ওই সম্মেলনে বিশ্বের ৩৪টি দেশ থেকে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ৪০০ তরুণ।
ফ্রান্স থেকে ফিরে পুলক মজুমদার সাভারের নবীনগরে তিন বন্ধু

