ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজধানীতে আলোচনায় এসেছে তথাকথিত ‘মামলা বাণিজ্য’। এরই অংশ হিসেবে ভুয়া পরিচয়ে হত্যার মামলা করতে গিয়ে ফেঁসে গেছেন দুই ব্যক্তি। ‘জালিয়াতি’ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আলাদাভাবে ‘মিস কেস’ দায়ের হয়েছে, যার তদন্তভার পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মামলার পেছনের কাহিনিতে উঠে এসেছে ভোলা থেকে ঢাকায় জীবিকার তাগিদে আসা তরুণ হাসান (১৯) হত্যাকাণ্ড, যার পরিবার জানায়—ঘটনার দীর্ঘদিন পরেও তারা কোনো মামলা করেনি, বরং তাদের না জানিয়ে অজ্ঞাতপরিচয়ের ব্যক্তিরা মামলা করার চেষ্টা করেছে।
গত ২৩ মার্চ ঢাকার মহানগর হাকিম এম মিজবাহ উর রহমানের আদালতে হাসানের মামা পরিচয়ে মামলা দায়ের করেন ইমরান নামের এক ব্যক্তি। তিনি মামলায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের নেতাসহ ১৮০ জনকে আসামি করেন।
তবে বিচারক বাদীর পরিচয় যাচাই করতে চাইলে ইমরান জানান, তিনি ‘দূর সম্পর্কের আত্মীয়’। বিচারকের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “আমার সামনে ঘটনা ঘটেছে, তাই মামলা করতে এসেছি।”
পরবর্তী ধার্য তারিখে ইমরান আদালতে অনুপস্থিত থাকায় বিচারক মামলা খারিজ করে তার বিরুদ্ধে ‘মিস কেস’ দায়েরের নির্দেশ দেন। তার আইনজীবী কামরুল আহসান বলেন, “ইমরানকে মামলাটি প্রত্যাহার করতে বলেছিলাম, কারণ তার বক্তব্যে সন্দেহ হয়েছিল। পরে শুনি, স্থানীয় কিছু লোকজনের ইন্ধনে সে মামলা করেছে।”
একই আদালতে ২৯ এপ্রিল আরও একটি ভুয়া মামলার চেষ্টা করেন ফাইজুল ইসলাম শাওন নামের একজন বাইকার। তিনি নিজেকে নিহত হাসানের মামা পরিচয় দিয়ে সাবেক দুই সংসদ সদস্য, পুলিশের সাবেক দুই মহাপরিদর্শকসহ ২৩১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের চেষ্টা করেন।
তবে আদালত বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে শাওনকে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে জানা যায়, শাওন নিজেই আন্দোলনের সময় আহত হয়ে সেলাই নিয়েছেন এবং ভেবেছিলেন তার ওপর হামলার বিষয়ে মামলা হচ্ছে।
শাওনের ভাষায়, “একজন পরিচিত সানি আমাকে উৎসাহিত করে মামলা করতে বলে। আমি জানতাম না এটা হত্যার মামলা।” আদালত তার মামলাও খারিজ করে দেয় এবং তার বিরুদ্ধেও ‘মিস কেস’ দায়ের করে।
ভোলার কাচিয়া বেপারী বাড়ি গ্রামের বাসিনà

