ছবি : প্রথম আলো
মাদারীপুরের শিবচরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন এক মা। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের হাজী শরিয়তউল্লাহ সেতু থেকে নিজের ১৫ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী ছেলেকে আড়িয়াল খাঁ নদীতে ফেলে দেন তিনি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে শিবচর থানা পুলিশ।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রতন শেখ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ছেলেটির মা রিজিয়া বেগম ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করেন এবং মানসিক ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ রয়েছে। তাঁর ছেলে নাসিরউদ্দিন জন্ম থেকেই দৃষ্টিহীন ও চলাচলে অক্ষম।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় রিজিয়া বেগমের সঙ্গে আরও দুটি শিশু ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আরিফ বলেন, আসরের নামাজের পর থেকেই ওই নারীকে সেতুর ওপর বসে থাকতে দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে থাকা ছেলেটি কান্নাকাটি করছিল। জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, খিদের কারণে ছেলেটি কাঁদছে।
নূর আলম নামের এক আইসক্রিম বিক্রেতা জানান, তিনি দূর থেকে দেখেন এক নারী একটি শিশুকে নদীতে ফেলে দেন। আরও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীও একই দাবি করেন। স্থানীয় এক অটোরিকশাচালকও নিকট থেকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বলে জানান।
ঘটনার পর স্থানীয়রা ওই নারীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। প্রথম আলোর হাতে থাকা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রিজিয়া বেগম জানান, ভরণপোষণের অক্ষমতার কারণেই তিনি ছেলেকে নদীতে ফেলে দিয়েছেন।
শিবচর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা লিয়াকত হোসেন জানান, ঘটনার পর থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। একটি ডুবুরি দল নদীতে তল্লাশি চালাচ্ছে। আশপাশের এলাকাতেও অনুসন্ধান চলছে, তবে ছেলেটিকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।
রিজিয়া বেগম শিবচরের বন্দরখোলা ইউনিয়নের শিকদার হাট এলাকার বাসিন্দা ও মৃত আজগর আলীর স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে সংসার চালাচ্ছিলেন। তাঁর তিন মেয়ে ও একমাত্র ছেলেই ছিলেন নাসিরউদ্দিন, যিনি জন্ম থেকেই অক্ষম।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মতে, দারিদ্র্য ও মানসিক অসুস্থতার করুণ পরিণতিই এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম দিয়েছে।

