ছবি : টিবিএস
ঢাকা, ১ মে — দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কথা নীতিনির্ধারকরা দীর্ঘদিন ধরে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরলেও শ্রমিকদের অবস্থান এখনো নাজুক। অর্থনীতির প্রধান তিন চালিকাশক্তি—কৃষি, তৈরি পোশাক ও রেমিট্যান্স—এই তিনটিই মূলত শ্রমনির্ভর খাত। অথচ এসব খাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের অবস্থা এখনও উন্নয়ন থেকে অনেক দূরে।
কম মজুরি, নিরাপত্তাহীন কর্মপরিবেশ, স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও ক্রমবর্ধমান আয় বৈষম্য—এসব সমস্যাই শ্রমিকদের বাস্তবতা। শ্রমিকদের জন্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরি কাঠামো এখনো কার্যকর হয়নি। জানা গেছে, দেশে মোট ১৪২টি খাত ও উপখাতের মধ্যে ৮৪টি খাতেই নেই কোনো ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ। স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও গঠিত হয়নি জাতীয় মজুরি কমিশন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের অর্থনীতি বড় হলেও এই উন্নয়নের সুফল পৌঁছায়নি শ্রমিকদের হাতে। বরং বৈষম্য ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএলও’র সংজ্ঞা অনুযায়ী, সপ্তাহে এক ঘণ্টারও কম কাজ পাওয়া মানে ‘বেকার’। সেই হিসাবে দেশের প্রকৃত বেকার সংখ্যা আরও অনেক বেশি, যদিও সরকারি হিসাব বলছে, দেশে মাত্র ২৬ লাখ বেকার।
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মধ্যে দেশে অতিদরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়বে প্রায় ৩০ লাখ। ১৭ কোটির মধ্যে প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়বে। এর পেছনে প্রকৃত আয় হ্রাস, দুর্বল শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধীরগতি—এই তিনটি কারণকে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, “জনশক্তিই দেশের মূল শক্তি। কিন্তু তাদের দক্ষতা বাড়েনি, শিক্ষার মান বাড়েনি। কর্মসংস্থান না বাড়লে এ জনশক্তিই এক সময় বোঝায় পরিণত হবে।”
ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের অর্থ সম্পাদক কাজী মো. রুহুল আমিন চার দফা দাবি তুলে ধরেন—
১. শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন
২. শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ
৩. আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী শ্রম আইন সংশোধন
৪. সর্বজনীন রেশন ব্যবস্থা চালু করা
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির হিসাবে দেশে প্রতিবছর ২২ লাখ মানুষ শà§

