২,৫০০-এর বেশি কারখানার মধ্যে মাত্র ৭৩৬টিতে সংস্কার সম্পন্ন, গতি কম তদারক, অর্থনৈতিক সংকট ও মালিকদের অনীহায়
সাভারে ভয়াবহ রানা প্লাজা ধসের এক যুগ পূর্ণ হলেও দেশের অধিকাংশ তৈরি পোশাক কারখানায় এখনো বৈদ্যুতিক, অগ্নি ও কাঠামোগত ত্রুটি পুরোপুরি দূর হয়নি। সংশ্লিষ্ট দুটি প্রধান তদারকি সংস্থার অধীনে থাকা ২ হাজার ৫২৭টি কারখানার মধ্যে মাত্র ২৯ শতাংশ, অর্থাৎ ৭৩৬টি কারখানায় সব ধরনের সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে।
বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কারখানাগুলোর সংস্কারকাজে ধীরগতির জন্য মূলত তিনটি কারণ দায়ী:
১. দেশি-বিদেশি চাপ কমে যাওয়া
২. আর্থিক সংকটে কারখানাগুলোর বিনিয়োগে অনীহা
৩. তদারকি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার ঘাটতি
রানা প্লাজা ধসের পর প্রথম পাঁচ বছর তুলনামূলক দ্রুত সংস্কারকাজ চললেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই গতি অনেকটাই কমে এসেছে।
রানা প্লাজার ধসের পর আন্তর্জাতিক ক্রেতারা অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স নামে দুটি জোট গঠন করেন, যা প্রায় দুই হাজার কারখানার সংস্কার তদারকি করে। বর্তমানে এসব কারখানার দায়িত্বে রয়েছে আরএমজি সাসটেইনিবিলিটি কাউন্সিল (আরএসসি)। সংস্থাটির অধীনে থাকা ১,৮৬১টি কারখানার মধ্যে মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত ৬৩৮টি কারখানায় পুরো সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে।
আরএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল হক জানান, “সংস্কার অগ্রগতির হার এখন ৮৬.১৬ শতাংশ, আমরা নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাসে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি।”
অন্যদিকে, অ্যাকর্ড–অ্যালায়েন্সের বাইরে থাকা ১,৫৪৯টি কারখানা জাতীয় ত্রিপক্ষীয় কর্মপরিকল্পনার (NTPA) আওতায় পরিদর্শিত হয়। তদারকির দায়িত্বে থাকা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রি সেফটি ইউনিট গঠন করে সংস্কারকাজ এগিয়ে নিচ্ছে। এই ইউনিটের অধীনে থাকা ৬৬৬টি কারখানার মধ্যে মাত্র ৯৮টি কারখানায় সংস্কার শেষ হয়েছে। প্রায় ২০০টির বেশি কারখানা ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।
ডিআইএফইর উপমহাপরিদর্শক মো. আকিদ-উল-হাসান বলেন, “যাঁরা সংস্কারে অনাগ্রহী ছিলেন, তাঁরা ঝরে পড়েছেন। এখন যারা টিকে আছেন, তারা টিকে থাকার জন্যই সংস্কার করছেন।”
সংস্কারকাজের ধীরগতির আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে অর্থনৈতিক চাপ। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “অগ্রগতি

