ছবি: ইটিভি ভারত
ভারত শাসিত জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র পহেলগাঁওয়ের বাইসারান এলাকায় জঙ্গিদের গুলিতে অন্তত ২৬ জন পর্যটক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। মঙ্গলবার এই ভয়াবহ হামলা ঘটে, যা গত এক বছরের মধ্যে কাশ্মীরে সবচেয়ে প্রাণঘাতী জঙ্গি হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জানা গেছে, ট্রেকিংয়ে বের হওয়া একদল পর্যটকের ওপর আচমকা হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। হামলার সময় জঙ্গিরা পর্যটকদের সঙ্গে মিশে ছিল বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। হামলার পরপরই সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় এবং পুরো এলাকা ঘিরে তল্লাশি অভিযান শুরু করে।
পুলিশ জানায়, আহতদের মধ্যে তিনজন জম্মু-কাশ্মীরের স্থানীয় এবং তিনজন রাজস্থানের বাসিন্দা। প্রাথমিকভাবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো একজন নিহত এবং সাতজন আহত হওয়ার খবর দিলেও, পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬-এ দাঁড়ায়।
কাশ্মীরের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য পহেলগাঁও প্রতি বছর হাজার হাজার দেশি-বিদেশি ভ্রমণপিপাসুকে আকর্ষণ করে। কিন্তু এমন ভয়াবহ হামলা নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনা তুলনামূলক কম ছিল। তবে ২০২৩ সালের জুনেও একটি হামলায় ৯ জন পূণ্যার্থী নিহত এবং ৩৩ জন আহত হন। ওই ঘটনায় একটি বাস খাদে পড়ে যায়, যা জঙ্গি হামলার ফলেই ঘটেছিল বলে জানায় পুলিশ।
এ বছর জুলাই মাসে শুরু হতে যাচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় তীর্থযাত্রা ‘অমরনাথ যাত্রা’। এই সময়টায় কাশ্মীরে পর্যটক ও পূণ্যার্থীদের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। তার আগেই পর্যটকদের লক্ষ্য করে এমন হামলা নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
১৯৮৯ সাল থেকে কাশ্মীরে ভারতবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু হয়। তখন থেকেই এই অঞ্চলে জঙ্গি তৎপরতা বেড়ে যায়, এবং হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা কিছুটা কমে এসেছিল, তবে এই হামলা সেই অস্থির সময়ের স্মৃতি আবারও টেনে এনেছে।
বর্তমানে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী জঙ্গিদের ধরতে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। তবে এ হামলা কাশ্মীরের স্থিতিশীলতা এবং পর্যটন শিল্পের ওপর বড় আঘাত হিসেব

